| বঙ্গাব্দ

হাম আক্রান্তদের সেবায় এনএইচএ-র হেল্পলাইন চালু | ২০২৬ সংবাদ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 15-05-2026 ইং
  • 7104 বার পঠিত
হাম আক্রান্তদের সেবায় এনএইচএ-র হেল্পলাইন চালু | ২০২৬ সংবাদ
ছবির ক্যাপশন: হাম আক্রান্তদের সেবায় এনএইচএ-র হেল্পলাইন চালু

‘হাম’ আক্রান্ত শিশুদের সেবায় এনএইচএ-র বিশেষ হেল্পলাইন: ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে জরুরি যোগাযোগ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়া ‘হাম’ (Measles) সংক্রমণের প্রেক্ষিতে আক্রান্ত শিশুদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে এগিয়ে এসেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্স (এনএইচএ)। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিয়ে দিশেহারা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালগুলোতে হেল্পলাইন এবং স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসক নিয়োগ করা হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে, ২০২৬) এনএইচএ-র দপ্তর সম্পাদক ডা. মো. আব্দুস সালামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই মানবিক উদ্যোগের কথা জানানো হয়।

ঢাকার প্রধান হাসপাতালগুলোতে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের তালিকা

সংগঠনটি ঢাকার বড় মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে নিম্নলিখিত চিকিৎসকদের সাথে ফোনে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছে:

১. ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক)

  • ডা. মো. জুলফিকার: 01710498909

  • ডা. মাশুক: 01835512550

২. স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মিটফোর্ড)

  • ডা. সাইয়েদ: 01706520987

  • ডা. সানি: 01558959650

৩. মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

  • ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন: 01608073642

  • ডা. মাজহারুল ইসলাম: 01540752487

৪. সোহরাওয়ার্দী, ঢাকা শিশু ও নিকটস্থ হাসপাতালসমূহ

  • ডা. তন্নী শেখ: 01999398779

  • ডা. আল আমিন: 01718662463

  • ডা. হাবিব: 01533-794744

  • ডা. তাওফিক ইমন: 01310938573

৫. ঢাকা ডিএনসিসি হাসপাতাল ও ডা. এমআর খান শিশু হাসপাতাল (মিরপুর)

  • ডা. মো. মনিরুজ্জামান: 01770591529

  • ডা. উসামা: 01826711924

  • ডা. আশিকুর রহমান শুভ: 01676565118

এনএইচএ-র আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. শাদরুল আলম ও সদস্য সচিব ডা. মো. আব্দুল আহাদের বিশেষ উদ্যোগে এই কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে।


বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা: ১৯০০ থেকে ২০২৬

হামের এই বর্তমান প্রাদুর্ভাব এবং স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসকদের এগিয়ে আসা ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলের জনস্বাস্থ্য বিবর্তনের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়।

  • বিংশ শতাব্দীর শুরু ও সংক্রামক ব্যাধি (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০০ সালের দিকে হাম, বসন্ত ও কলেরার মতো রোগগুলো মহামারীর রূপ নিত। তখন গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের কাছে আধুনিক চিকিৎসা সেবা ছিল প্রায় কল্পনাতীত। ১৯০০ সালের সেই অন্ধকার আমল থেকে ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল বাংলাদেশে এখন ফোনের মাধ্যমেই চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।

  • টিকাদান কর্মসূচি ও সাফল্য (১৯৭১-১৯৯০): স্বাধীনতার পর আশির দশকে বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচি (EPI) শক্তিশালী হওয়ায় হামের প্রকোপ ব্যাপকভাবে কমেছিল। তবে ২০২৬ সালের এই সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব টিকাদানের ক্ষেত্রে কোনো সম্ভাব্য শিথিলতা বা ভাইরাসের নতুন ধরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে গবেষণার অবকাশ রয়েছে।

  • ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও নাগরিক চেতনা: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে নাগরিকদের মধ্যে সেবার মানসিকতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। 'জাতীয় নাগরিক পার্টি' বা এনসিপি-র মতো নতুন ধারার রাজনৈতিক শক্তিগুলো কেবল রাজনীতি নয়, বরং সমাজসেবার মাধ্যমেও নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে।

  • ২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ১৯০০ সালের সেই হাতুড়ে চিকিৎসকের আমল থেকে ২০২৬ সালের এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের হেল্পলাইন ব্যবস্থা—বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবা যে অনেক বেশি জনবান্ধব ও দ্রুততর হচ্ছে, এটি তার বড় প্রমাণ। ২০২৬ সালের মে মাসের এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় এনএইচএ-র এই উদ্যোগ প্রশংসাযোগ্য।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার

ইতিহাস সাক্ষী, যখনই কোনো মহামারী বা সংকট দেখা দিয়েছে, সাধারণ মানুষের পাশে স্বেচ্ছাসেবকরাই সবার আগে দাঁড়িয়েছেন। ১৯০০ সালের সেই 'ডিভাইড অ্যান্ড রুল' আমলের অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে ২০২৬ সালের এই স্বাধীন ও সচেতন বাংলাদেশে চিকিৎসকদের এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা জনমনে স্বস্তি দিচ্ছে। তবে কেবল হেল্পলাইন নয়, হাম নিয়ন্ত্রণে সরকারি পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরালো করা জরুরি। ২০২৬ সালের এই বসন্ত ও গ্রীষ্মের সন্ধিক্ষণে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।


সূত্র: ১. ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্স (এনএইচএ) প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (১৩ মে, ২০২৬)।

২. ঐতিহাসিক দলিল: বিংশ শতাব্দীতে বাংলাদেশে সংক্রামক ব্যাধি ও চিকিৎসা ব্যবস্থার বিবর্তন (১৯০০-২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency